অবতল দর্পণের ফোকাস দূরত্ব নির্ণয়

অবতল দর্পণের ফোকাস দূরত্ব নির্ণয় করতে হলে অবতল দর্পণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা থাকতে হবে তা না হলে অবতল দর্পণের ফোকাস দূরত্ব নির্ণয় এর ব্যাখ্যা ভালোভাবে বুঝা সম্ভবনা। তাই প্রথমে অবতল দর্পণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে অবতল দর্পণের ফোকাস দূরত্ব নির্ণয় করব।

গোলীয় দর্পণ দু প্রকারের হয়। যথা-

(১) অবতল দর্পণ (Concave mirror) এবং

(২) উত্তল দর্পণ (Convex mirror)

অবতল দর্পণ কাকে বলে: কোন ফাঁপা গোলকের ভেতরের পৃষ্ঠের কিছু অংশ যদি মসৃণ হয় এবং তাতে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে, অর্থাৎ গোলকের অবতল পৃষ্ঠ যদি প্রতিফলকরূপে কাজ করে, তবে তাকে অবতল দর্পণ বলে।

কোন যচ্ছ ফাঁকা গোলকের খানিকটা অংশ কেটে নিয়ে যদি এর বাইরের পৃষ্ঠে অর্থাৎ উত্তল পৃষ্ঠে পারা লাগান হয় তাহলে অবতল দর্পণ তৈরি হয় । নিচের চিত্রে MM1 একটি অবতল দর্পণ।

লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান প্রধান ফোকাস ও মেরূর মাঝে থাকলে বিম্বের অবস্থান

অবতল দর্পণের ফোকাস দূরত্ব নির্ণয়:

অবতল দর্পণের ফোকাস দূরত্ব নির্ণয়

তত্ত্ব: দর্পণের মেরু থেকে প্রধান ফোকাস পর্যন্ত দূরত্বকে ফোকাস দূরত্ব বলে। দর্পণের ক্ষেত্রে আমরা জানি,

1f=1v=1u

এখানে, f= ফোকাস দূরত্ব
u = লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব
v = বিশ্বের দূরত্ব
অবতল দর্পণের প্রধান ফোকাসের বাইরে কোন লক্ষ্যবস্তু স্থাপন করলে এর বাস্তব ও উল্টো বিল্ম গঠিত হয়। চিহ্নের বাস্তব ধনাত্মক প্রথা অনুসারে অর্থাৎ দর্পণের মেরু থেকে যে কোন বাস্তব দূরত্ব ধনাত্মক এবং অবাস্তব দূরত্ব ঋণাত্মক ধরে অবতল দূর্পণের জন্য এ ক্ষেত্রে আমরা পাই,

ফোকাস দূরত্ব, f = + f

লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব, u= +u

বাস্তব বিশ্বের দূরত্ব, v = + v

1f=u+vuv

f= uvu+v

যন্ত্রপাতি: আলোক বেঞ্চ, অবতল দর্পণ এবং স্ট্যান্ডসহ দুটি পিন।

কার্য-প্রণালী: এক্ষেত্রে দুটি পিন ব্যবহার করা হয়। একটি বস্তু পিন (PQ) অন্যটি সন্ধানী পিন (AB)। অবতল দর্পণটি একটি আলোক বেঞ্চের উপর স্ট্যান্ডের সাহায্যে এমনভাবে রাখা হয় যেন এর প্রধান অক্ষ অনুভূমিক অবস্থায় আলোক বেঞ্চের সমান্তরাল থাকে। এখন দর্পণের সামনে আলোক বেঞ্চের উপর বস্তু পিনটিকে এমনভাবে রাখা হয় যেন পিনটির শীর্ষ প্রধান অক্ষের উপর থাকে। এই অবস্থায় দর্পণের সামনে একটি উল্টো বিশ্ব দেখা যাবে। এখন পিনটিকে সামনে-পেছনে সরিয়ে এমন অবস্থানে আনা হয় যেন পিনের সাথে এর উল্টো বিশ্বের কোন লম্মন ত্রুটি না থাকে।

এরপর বস্তু পিনটি (PQ)-কে একটু সামনে এগিয়ে দিলে এর পিছনে একটি বাস্তব উল্টো বিম্ব (P’Q’) গঠিত হয়। এবার সন্ধানী পিনটি (AB)-কে আলোক বেঞ্চের উপর বিশ্বের অবস্থানে এমনভাবে রাখতে হবে যেন বস্তু পিনের বিশ্ব ও সন্ধানী পিনের মধ্যে কোন লম্বন ত্রুটি না থাকে। এই অবস্থায় সন্ধানী পিনের মাথার সাথে বিশ্ব ঠিকভাবে মিলে যাবে এবং চোখ অনুভূমিকভাবে ডানে বা বামে সরালে সন্ধানী পিন ও বিম্ব উভয়ই একত্রে সরে যায় বলে মনে হয় এবং উভয়ের মধ্যে কোন ফাঁক দেখা যাবে না।
দর্পণ থেকে বস্তু পিনের দূরত্ব ও সন্ধানী গিনের দূরত্ব মেপে নিলে যথাক্রমে লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব (u) ও বিশ্বের দূরত্ব (v) পাওয়া যায়।

উপরিউক্ত পদ্ধতিতে বস্তু পিনের বিভিন্ন অবস্থানের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন অবস্থানের পাঠ নেওয়া হয়। u ও ѵ- এর আনুষঙ্গিক মান উপরিউক্ত সূত্রে বসিয়ে (f)-এর মান নির্ণয় করে গড় f হিসাব করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top