উত্তল ও অবতল দর্পণের ব্যবহার লেখ ? দর্পণ চেনার উপায়

উত্তল ও অবতল দর্পণের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে হলে দর্পণ কাকে বলে , দর্পণ কত প্রকার ও কী কী জানতে হবে। এই পাঠে দর্পণ চেনার উপায় সহ দর্পণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

দর্পণ কাকে বলে কত

যে মসৃণ তলে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে তাকে দর্পণ বলে।

দর্পণ কত প্রকার ও কি কি

দর্পণ প্রধানত দু প্রকার। যথা-

  1. সমতল দর্পণ (Plane mirror) ও
  2. গোলীয় দর্পণ (Spherical mirror)।

গোলীয় দর্পণ কত প্রকার ও কি কি

গোলীয় দর্পণ আবার দু প্রকারের হয়। যথা-

  1. অবতল দর্পণ (Concave mirror) এবং
  2. উত্তল দর্পণ (Convex mirror)।

উত্তল ও অবতল দর্পণের ব্যবহার Uses of Mirrors

বিভিন্ন ধরনের দর্পণ আমরা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করি।

সমতল দর্পণ : সমতল দর্পণ দর্শকের চেহারা দেখার জন্য ব্যবহার করা হয়। এই দর্পণের সাহায্যে সরল পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়।

অবতল দর্পণ: অভিসারী রশ্মিগুচ্ছ সৃষ্টি করতে বা কোন বস্তুর বিবর্ধিত বিশ্ব সৃষ্টি করতে অবতল দর্পণ ব্যবহার করা হয়। সুবিধাজনক আকৃতির অবতল দর্পণ ব্যবহার করে মুখমণ্ডলের বিবর্ধিত বিশ্ব তৈরি করা হয়, এতে রূপচর্চা ও দাড়ি কাটার সময় সুবিধা হয়। কোন স্টিমারের সার্চ লাইটে প্রতিফলক হিসেবে অবতল দর্পণ ব্যবহার করা হয়। নভো দূরবীণেও অবতল দর্পণের ব্যবহার দেখা যায়। এই দর্পণের সাহায্যে আলোক রশ্মিগুচ্ছকে একত্রিত করে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে ফেলা যায় বলে ডাক্তাররা চোখ, নাক, কান ও গলা পর্যবেক্ষণ করার সময় এই দর্পণ ব্যবহার করেন।

উত্তল দর্পণ : উত্তল দর্পণে যে কোন বস্তুর অবাস্তব, সোজা ও বস্তুর চেয়ে ছোট বিশ্ব গঠন করে বলে পিছনের যানবাহন বা পথচারী দেখার জন্য বিভিন্ন গাড়িতে এই দর্পণ ব্যবহার করা হয়। এই দর্পণ আলোক রশ্মি চারদিকে ছড়িয়ে দেয় বলে মোটর গাড়ির হেডলাইট বা রাস্তার লাইটে প্রতিফলক হিসেবে উত্তল দর্পণ ব্যবহার করা হয়।

উত্তল ও অবতল দর্পণের ব্যবহার

দর্পণ চেনার উপায় Identification of Mirror

কোন দর্পণের একেবারে নিকটে একটি আঙুল খাড়াভাবে স্থাপন করলে যদি সোজা বিশ্ব লক্ষ্যবস্তুর চেয়ে বড় হয় তাহলে দর্পণটি অবতল, আর যদি সোজা বিশ্ব ছোট হয় তাহলে দর্পণটি উত্তল ও সোজা। বিম্ব লক্ষ্যবস্তুর সমান হলে দর্পণটি সমতল হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top