আলোর বিচ্ছুরণ কাকে বলে ? প্রিজমে আলোর বিচ্ছুরণ ব্যাখ্যা কর ?

আলোর বিচ্ছুরণ কাকে বলে এবং প্রিজমে আলোর বিচ্ছুরণ ব্যাখ্যা করা হলো

আলোর বিচ্ছুরণ কাকে বলে Dispersion of Light

কোন মাধ্যমে প্রতিসরণের ফলে যৌগিক আলো থেকে মূল বর্ণের আলো পাওয়ার পদ্ধতিকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে।

আমরা দেখেছি যে, সূর্যের সাদা আলো যদি কোন কাচের প্রিজমের মধ্য দিয়ে যায় তাহলে তা সাতটি রঙে বিশ্লিষ্ট হয়। প্রিজম থেকে নির্গত রশ্মিগুলোকে যদি কোন পর্দার উপর ফেলা যায় তাহলে পর্দায় সাতটি রঙের পট্টি (Band) দেখা যায়। আলোর এই রঙিন পট্টিকে বর্ণালী (Spectrum) বলে। প্রিজমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় সাদা রঙের আলো সাতটি মূল রঙের আলোকে বিশ্লিষ্ট হওয়ার প্রণালীকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে।

 

প্রিজমে আলোর বিচ্ছুরণ

পরীক্ষা: ১৬৬৬ সালে স্যার আইজ্যাক নিউটন একটি সহজ পরীক্ষার সাহায্যে সর্বপ্রথম আলোর বিচ্ছুরণ আবিষ্কার করেন। তিনি তাঁর ঘরের জানালায় একটি ছোট ছিদ্র করে এই পরীক্ষা করেন। অন্ধকার ঘরে জানালার এই ছোট ছিদ্র দিয়ে সূর্যালোক বিপরীত দিকে দেওয়ালের উপর পড়ে। এখন আলোর গতিপঞ্চে একটি প্রিজম স্থাপন করে তিনি দেওয়ালে সাদা আলোর পরিবর্তে সাতটি রঙ দেখতে পান [চিত্র ৯.২৪]। সাতটি রঙের এই পট্টিকে নিউটন বর্ণালী আখ্যা দেন। বর্ণালীতে তিনি বেগুনি (Violet), নীল (Indigo), আসমানী (Blue), সবুজ (Green), হলুদ (Yellow), কমলা (Orange) ও লাল (Red)-এ সাতটি রং পর পর দেখতে পান। রংগুলোর নাম ও ক্রম সহজে মনে রাখার জন্য এদের নামের আদ্যাক্ষরগুলো নিয়ে ইংরেজিতে VIBGYOR ও বাংলায় বেনীআসহকলা শব্দ গঠন করা হয়।
বর্ণালী থেকে দেখা যায় যে, লাল রঙের আলোর বিচ্যুতি সবচেয়ে কম এবং বেগুনি আলোর বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। হলুদ রঙের আলোর বিচ্যুতি লাল ও বেগুনি আলোর মাঝামাঝি বলে এর বিচ্যুতিকে গড় বিচ্যুতি বলে এবং হলুদ রশ্মিকে মধ্যরশ্মি বলে।

আলোর বিচ্ছুরণ কাকে বলে

এ পরীক্ষা থেকে নিউটন এই সিদ্ধান্তে আসেন যে, সূর্যের সাদা আলোর প্রকৃতি যৌগিক (Composite) এবং এই আলো সাতটি মূল রঙের আলোর সমষ্টি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top