আয়নিক বন্ধন বা তড়িৎযোজী বন্ধন কাকে বলে এর উদাহরণ দাও

যেহেতেু আয়নিক বন্ধন ও তড়িৎ যোজী বন্ধন একই সেহেতু আমরা যদি তড়িৎযোজী বন্ধন কাকে বলে শিখি তাহলে আয়নিক বন্ধনও শেখা হবে। এর সাথে আয়নিক বন্ধন এর উদাহরণ ও আমরা ব্যাখ্যা সহ আলোচনা করব।

আয়নিক বন্ধন তড়িৎযোজী বন্ধন কাকে বলে আয়নিক বন্ধন এর উদাহরণ

তড়িৎযোজী বন্ধন কাকে বলে

ধাতব পরমাণু ও অধাতব পরমাণু ইলেকট্রন বর্জন ও গ্রহনের মাধ্যমে যে বন্ধন তৈরি করে তাকে তড়িৎযোজী বন্ধন বলে।

 

আয়নিক বন্ধন কাকে বলে

ধাতু ও অধাতুর মধ্যে রাসায়নিক সংযোগের সময় নিষ্ক্রিয় গ্যাসের অনুরুপ ইলেকট্রন গঠন লাভের উদ্দেশ্যে ধাতুর পরমাণু ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্বক আয়নে এবং অধাতুর পরমাণু সে ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋনাত্বক আয়নে পরিণত হয়। এ ভাবে সৃষ্ট বিপরীত চার্জ যুক্ত আয়নের মধ্যে তড়িৎ আকর্ষণের ফলে যে রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি হয়, তাকে আয়নিক বন্ধন বা তড়িৎযোজী বন্ধন বলে।

 

আয়নিক বন্ধন গঠনের শর্ত (Conditions for the formation of Ionic bond):

১. যোজ্যতা ইলেকট্রনের সংখ্যা: যে মৌলের পরমাণুটি ইলেকট্রন দান করে ক্যাটায়নে পরিণত হয়, সে পরমাণুটির সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরে ইলেকট্রনের সংখ্যা 1, 2 বা 3 হওয়া প্রয়োজন। বিপরীতভাবে যে মৌলের পরমাণুটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে অ্যানায়নে পরিণত হয়, সেটির সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরে ইলেকট্রনের সংখ্যা 5, 6 বা 7 হওয়া প্রয়োজন।

২. পরমাণুর আয়নিকরণ বিভব: তড়িৎ ধনাত্মক মৌলের যে পরমাণুটি ইলেকট্রন দান করে ক্যাটায়নে পরিণত হয়, সে
মৌলের পরমাণুটির আয়নিকরণ বিভবের মান খুব নিম্ন হওয়া প্রয়োজন। বিপরীতভাবে তড়িৎ ঋণাত্মক মৌলের যে পরমাণুটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে অ্যানায়নে পরিণত হয় তার আয়নিকরণ বিভবের মান খুব উচ্চ হওয়া প্রয়োজন।

৩. তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান : তড়িৎ ধনাত্মক মৌল ক্যাটায়নে পরিণত হয়। তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল অ্যানায়নে পরিণত হয়। ক্যাটায়ন গঠনকারী মৌলের পরমাণুটির তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান খুব নিম্ন ও অ্যানায়ন গঠনকারী মৌলের পরমাণুটির তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান খুব উচ্চ হওয়া প্রয়োজন

 

আয়নিক বন্ধন এর উদাহরণ:

Na ও Cl এর মধ্যে আয়নিক বন্ধনে NaCl গঠন: সোডিয়াম পরমাণুতে ১১টি ইলেকট্রন ও ক্লোরিন পরমাণুতে ১৭টি ইলেকট্রন আছে তাদের ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরুপঃ
Na (11) 1S2 2S2 2P6 3S1

Cl (17) 1S2 2s2 2P6 3S2 3P5

ইলেকট্রন বিন্যাস হতে দেখা যায় Na এর বাইরের শক্তিস্তরে ১টি এবং ক্লোরিনের বাইরের শক্তিস্তরে ৭টি ইলেকট্রন আছে। Na এর বাইরের শক্তিস্তগের ইলেকট্রনটি ক্লোরিন পরমাণুকে দান করে ফলে ক্লোরিন পরমাণু ঋনাত্মক ক্লোরাইড আয়নে পরিণত হয় এবং সোডিয়াম পরমাণুটি ধনাত্মক চার্জ যুক্ত সোডিয়াম আয়নে পরিণত হয় এবং উভয়ই নিস্ক্রিয় গ্যাসের অনুরুপ গঠন প্রাপ্ত হয়। যেমন-

Na – e → Na+ (1S2 2S2 2P6)

Cl + e  → Cl (1S2 2s2 2P6 3S2 3P6)

অতপর উৎপন্ন ধনাত্বক সোডিয়াম আয়ন এবং ঋনাত্বক ক্লোরাইড আয়ন বৈদ্যুতিক আকর্ষণী বল দ্বারা পরস্পরের সঙ্গে আয়নিক বন্ধনে যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড অণু সৃষ্টি হয়।

Na+ + Cl → Na+Cl

 

KF, Al2O3 ও NaCl এর আয়নিক বন্ধন গঠন চিত্রসহ ব্যাখ্যা কর ?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top