তড়িৎ ঋণাত্মকতা কাকে বলে? তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান বের করার নিয়ম

আজকের পাঠে আমরা শিখব তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান বের করার নিয়ম। এজন্য আমাদের অবশ্যই তড়িৎ ঋণাত্মকতা কাকে বলে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা থাকতে হবে। তড়িৎ ঋণাত্মকতা কাকে বলে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে তারপর তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান বের করার নিয়ম ব্যাখ্যা করব।

তড়িৎ ঋণাত্মকতা কাকে বলে

কোনো সমযোজী যৌগের অনুতে উপস্থিত দুটি ভিন্ন মৌলের পরমাণুর মধ্যে শেয়ারকৃত বন্ধণ ইলেকট্রন যুগলকে একটি মৌলের পরমাণু কর্তৃক নিজের দিকে অর্ধিক আকর্ষণ করার তুলনামূলক ক্ষমতাকে সেই মৌলের তড়িৎ ঋণাত্মকতা বলা হয়।

তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান বের করার নিয়ম

সাধারনত চারটি ভাবে তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান বের করা যায়। তবে এর কিছু ব্যাতিক্রম আছে। নিচে তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান বের করার নিয়ম গুলো দেওয়া হলো:

  1. পর্যায় সারণীর একই পর্যায়ের বাম দিক থেকে ডান দিকে গেলে তড়িৎ ঋণাত্মকতা বৃদ্ধি পায়।
  2. পর্যায় সারণীর একই পর্যায়ের ডান দিক থেকে বাম দিকে গেলে তড়িৎ ঋণাত্মকতা হ্রাস পায়।
  3. পর্যায় সারণীর একই গ্রুপের উপর থেকে নিচে নামলে তড়িৎ ঋণাত্মকতা হ্রাস পায়।
  4. পর্যায় সারণীর একই গ্রুপের নিচ থেকে উপরে উঠলে তড়িৎ ঋণাত্মকতা বৃদ্ধি পায়।

 

পর্যায় সারণীর একই পর্যায়ের বাম দিক থেকে ডান দিকে গেলে তড়িৎ ঋণাত্মকতা বৃদ্ধি পায় কেন

পর্যায় সারণীর একই পর্যায়ের বাম দিক থেকে ডান দিকে গেলে তড়িৎ ঋনাত্মকতা বৃদ্ধি পায়। নিচে ইহা ৩য় পর্যায়ের মৌলগুলোর ইলেকট্রন বিন্যাসের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো।

৩য় পর্যায়ের মৌল গুলো হলো : Na, Mg, Al, Si, P, S, Cl ও Ar

এদের কয়েকটির ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরূপ :

          Na(11)→1s22s22p63s1

         Mg(12)→1s22s22p63s2

         Al(13)→1s22s22p63s23p1

         Si(14)→1s22s22p63s23p2

ইলেকট্রন বিন্যাস থেকে দেখা যাচ্ছে যে, একই পর্যায়ের বাম দিক থেকে ডান দিকে গেলে মৌলগুলোর পারমানবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে নিউক্লিয়াসের চারদিকে নতুন কোনো শক্তিস্তর যুক্ত হয় না। ফলে সর্ববহিস্থ স্তরের ইলেকট্রন এর সাথে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ বৃদ্ধি পেয়ে মৌলগুলোর আকার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। আকার হ্রাস পাওয়ার কারনে বন্ধন যুগল ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের কাছে অবস্থান করে। ফলে নিউক্লিয়াসের সাথে বন্ধণ যুগল ইলেকট্রন এর আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়।

এজন্যই, পর্যায় সারণীর একই পর্যায়ের বাম দিক থেকে ডান দিকে গেলে তড়িৎ ঋনাত্মকতা বৃদ্ধি পায়।

তড়িৎ ঋণাত্মকতা কাকে বলে

পর্যায় সারণীর একই পর্যায়ের ডান দিক থেকে বাম দিকে গেলে তড়িৎ ঋণাত্মকতা হ্রাস পায় কেন

পর্যায় সারণীর একই পর্যায়ের ডান দিক থেকে বাম দিকে গেলে তড়িৎ ঋনাত্মকতা হ্রাস পায়। নিচে ইহা ৩য় পর্যায়ের মৌলগুলোর ইলেকট্রন বিন্যাসের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো।

৩য় পর্যায়ের মৌল গুলো হলো : Na, Mg, Al, Si, P, S, Cl ও Ar

এদের কয়েকটির ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরূপ :

          Na(11)→1s22s22p63s1

         Mg(12)→1s22s22p63s2

         Al(13)→1s22s22p63s23p1

         Si(14)→1s22s22p63s23p2

ইলেকট্রন বিন্যাস থেকে দেখা যাচ্ছে যে, একই পর্যায়ের ডান দিক থেকে বাম দিকে গেলে নিউক্লিয়াসের চারদিকে শক্তিস্তরের সংখ্যা একই থাকলেও পারমানবিক সংখ্যা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায় । ফলে সর্ববহিস্থ স্তরের ইলেকট্রন এর সাথে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ হ্রাস পেয়ে মৌলগুলোর আকার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়। আকার বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে বন্ধন যুগল ইলেকট্রন নিউক্লিয়াস থেকে দুরে অবস্থান করে। ফলে নিউক্লিয়াসের সাথে বন্ধণ যুগল ইলেকট্রন এর আকর্ষণ হ্রাস পায়।

এজন্যই, পর্যায় সারণীর একই পর্যায়ের ডান দিক থেকে বাম দিকে গেলে তড়িৎ ঋনাত্মকতা হ্রাস পায়।

 

ccl4 আর্দ্র বিশ্লেষিত হয় না কিন্তু sicl4 আর্দ্র বিশ্লেষিত হয় কেন ?

 

পর্যায় সারণীর একই গ্রুপের উপর থেকে নিচে নামলে তড়িৎ ঋণাত্মকতা হ্রাস পায় কেন

পর্যায় সারণীর একই গ্রুপের উপর থেকে নিচে নামলে তড়িৎ ঋনাত্মকতা হ্রাস পায়। নিচে ইহা ১নং গ্রুপের মৌলগুলোর ইলেকট্রন বিন্যাসের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো।

১নং গ্রুপের মৌল গুলো হলো : H, Li, Na, K, Rb, Cs ও Fr

এদের কয়েকটির ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরূপ :

       H(1)⟶1s1

       Li(3)⟶1s22s1

       Na(11)⟶1s22s22p63s1

       K(19)⟶1s22s22p63s23p64s1

ইলেকট্রন বিন্যাস থেকে দেখা যাচ্ছে যে, পর্যায় সারণীর একই গ্রুপের উপর থেকে নিচে নামলে মৌলগুলোর  পারমানবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে নিউক্লিয়াসের চারদিকে নতুন করে শক্তিস্তর যুক্ত হয়। ফলে মৌলের পারমানবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মৌলের আকার যতটুকু হ্রাস পায় কিন্তু নতুন শক্তিস্তর যুক্ত হওয়ার কারণে তার চেয়ে আকার বেশি বৃদ্ধি পায়। যার কারণে পর্যায় সারণীর একই গ্রুপের উপর থেকে নিচে নামলে মৌলগুলোর আকার ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। তাই আকার বৃ্দ্ধি পাওয়ার কারণে সমযোজী বন্ধনে শেয়ারকৃত ইলেকট্রন এর প্রতি নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ ক্রমশ হ্রাস পায়।

একারণেই, পর্যায় সারণীর একই গ্রুপের উপর থেকে নিচে নামলে তড়িৎ ঋনাত্মকতা হ্রাস পায়।

তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান বের করার নিয়ম

পর্যায় সারণীর একই গ্রুপের নিচ থেকে উপরে উঠলে তড়িৎ ঋণাত্মকতা বৃদ্ধি পায় কেন

পর্যায় সারণীর একই গ্রুপের নিচ থেকে উপরে উঠলে তড়িৎ ঋনাত্মকতা বৃদ্ধি পায়। নিচে ইহা ১নং গ্রুপের মৌলগুলোর ইলেকট্রন বিন্যাসের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো।

১নং গ্রুপের মৌল গুলো হলো : H, Li, Na, K, Rb, Cs ও Fr

এদের কয়েকটির ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরূপ :

       H(1)⟶1s1

       Li(3)⟶1s22s1

       Na(11)⟶1s22s22p63s1

       K(19)⟶1s22s22p63s23p64s1

ইলেকট্রন বিন্যাস থেকে দেখা যাচ্ছে যে, পর্যায় সারণীর একই গ্রুপের নিচ থেকে উপরে উঠলে মৌলগুলোর  পারমানবিক সংখ্যা হ্রাসের সাথে সাথে নিউক্লিয়াসের চারদিকে শক্তিস্তরের সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পায়। ফলে মৌলের পারমানবিক সংখ্যা হ্রাসের সাথে সাথে মৌলের আকার যতটুকু হ্রাস পায় কিন্তু নতুন শক্তিস্তর যুক্ত না হওয়ার কারণে তার চেয়ে আকার বেশি হ্রাস পায়। যার কারণে পর্যায় সারণীর একই গ্রুপের নিচ থেকে উপরে উঠলে মৌলগুলোর আকার ক্রমশ হ্রাস পায়। তাই আকার হ্রাস পাওয়ার কারণে সমযোজী বন্ধনে শেয়ারকৃত ইলেকট্রন এর প্রতি নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।

একারণেই, পর্যায় সারণীর একই গ্রুপের নিচ থেকে উপরে উঠলে তড়িৎ ঋনাত্মকতা বৃদ্ধি পায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top