তাপগতিবিদ্যার শূন্যতম সূত্রটি বিবৃত ও ব্যাখ্যা কর ?

তাপগতিবিদ্যার শূন্যতম সূত্র বিবৃত ও ব্যাখ্যা বুঝতে হলে আমাদের অবশ্যই তাপ ও তাপমাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা থাকতে হবে। তাই তাপগতিবিদ্যার শূন্যতম সূত্র বিবৃত করার পর আমরা তাপ ও তাপমাত্র সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচান করব। আশাকরি আমার এই পাঠটা সকলে বুঝতে পারবেন।

তাপগতিবিদ্যার শূন্যতম সূত্র

Zeroth law of thermodynamics

তাপগতিবিদ্যার শূন্যতম সূত্র বিবৃত

তাপ গতিবিদ্যার শূন্যতম সূত্রটি প্রথম প্রকাশ করেন বিজ্ঞানী ফাওলার। সূত্রটি হলো :

দুটি বস্তু তৃতীয় কোনো বস্তুর সাথে তাপীয় সমতায় থাকলে প্রথমউক্ত বস্তু দুটি পরস্পরের সাথে তাপীয় সমতায় থাকবে ।

এটিই তাপ গতিবিদ্যার শূন্যতম সূত্র ।

তাপগতিবিদ্যার শূন্যতম সূত্র থেকে তাপমাত্রা সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায় । কোনো বস্তু অন্য কোনো বস্তুর সাথে তাপীয় সমতায় আছে কী না তা বস্তুর যে ধর্ম দ্বারা নির্ধারীত হয় তাই তাপমাত্রা ।

তাপ কি

তাপ এক প্রকারের শক্তি। শক্তির যে রূপ আমাদের গরম বা ঠান্ডার অনুভুতি জন্মায় তাকে তাপ বলা হয়।

তাপমাত্রা কি

তাপমাত্রা হচ্ছে এমন একটি মৌলিক রাশি যা দ্বারা কোনো বস্তু কতটুকু ঠান্ডা বা গরম তা জানা যায়।

তাপ ও তাপমাত্রার পার্থক্য লেখ ?

তাপ :

  • তাপের প্রভাব তাপের পরিমাণের উপর নির্ভর করে না।
  • তাপ পরিমাপের এক জুল।
  • দুটি বস্তুর তাপমাত্রা এক  হলেও তাপের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

তাপমাত্রা:

  • তাপের প্রভাব তাপমাত্রার উপর নি্ভের করে।
  • তাপমাত্রা পরিমাপের একক K
  • দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ একই  হলেও এদের তাপমাত্রা ভিন্ন হতে পারে।

লেন্সের ফোকাস দূরত্ব নির্ণয়ের সূত্র প্রতিপাদন ?

তাপমাত্রা পরিমাপের মূল নিতি ?

সে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বস্তুর তাপমাত্রা সঠিক ভাবে নির্ণয় করা হয় তাকে থার্মোমিটার বলা হয় ।

দুই স্থির বিন্দু পদ্ধতি 

দুই স্থির বিন্দু পদ্ধতিতে দুটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রাকে স্থির বিন্দু হিসেবে ধরা হয়। একটি নিম্নস্থির বিন্দু ও অপরটি ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু ।

স্বাভাবিক চাপে যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলে পানিতে বা বিশুদ্ধ পানি জমে বরফে পরিণত হয় তাকে স্থির বিন্দু বলা হয় ।

স্বাভাবিক চাপে যে তাপমাত্রায় পানি ফুটে বাষ্পে পরিণত হয়। অথবা বাষ্প ঘনিভূত হয়ে পানিতে পরিণত হয় তাকে উর্ধ্বস্থিরাংক বলা হয়। ঊর্ধ্ব ও নিম্ন স্থির বিন্দুদ্বয়ের মধ্যবর্তী তাপীয় ব্যবধানকে মৌলিক ব্যবধান বলা হয়। তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য বিভিন্ন স্কেল প্রচলিত আছে । যথা :

  1. সেলসিয়াস স্কেল ।
  2. ফারেনহাইট স্কেল ।
  3. কেলভিন স্কেল ।

 

সেলসিয়াস স্কেলেঃ

দুই স্থির বিন্দু পদ্ধতিতে 1742 সালে সুইডেন এর জ্যাতিবিদ অ্যন্ডাস সেলসিয়াস নিম্ন স্থির বিন্দু বরক বিন্দুকে 0°c এবং ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু বা বাষ্প বিন্দুকে 100°c ধরে তাপমাত্রার একটি স্কেল প্রবর্তন করেন। এ স্কেল অনুসারে মৌলিক ব্যবধানকে সমান 100 ভাগে ভাগ করে প্রতি ভাগকে একক তাপমাত্রা হিসেবে ধরা হয় । এই স্কেলের তাপমাত্রার একক ডিগ্রি সেলসিয়াস বা সংক্ষেপে °c দ্বারা প্রকাশ করা হয় ।

ফারেনহাইট স্কেল

যে স্কেলে বরফবিন্দুকে 32° এবং স্টিমবিন্দুকে 212° ধরে মধ্যবর্তী মৌলিক ব্যবধানকে 180 ভাগে ভাগ করা হয় যে স্কেলকে ফারেনহাইট স্কেল বলে। এর এক এক ভাগকে এক ডিগ্রি ফারেনহাইট ( 1°F ) বলা হয়।

কেলভিন স্কেল

কেলভিন তাপমাত্রা বা তাপমাত্রা পরিবর্তনের এসআই একক হচ্ছে কেলভিন। পানির ত্রৈধবিন্দুর তাপমাত্রার 1/273.16 কে 1K বা এক কেলভিন বলা হয়।

এর উপর ভিত্তি করে পরমশূন্য তাপমাত্রা হচ্ছে 0K, বরফবিন্দু 273.15 K এবং স্টিমবিন্দু 373.15 K.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top