ভ্যানডার ওয়ালস বল কাকে বলে? ভ্যানডার ওয়ালস বলের বৈশিষ্ট্য কি কি?

ভ্যানডার ওয়ালস বলের বৈশিষ্ট্য জানার পূর্বে আমাদের ভ্যানডার ওয়ালস বল কাকে বলে তা বিস্তারিত জানতে হবে। এজন্য সর্ব প্রথম ভ্যানডার ওয়ালস বল কাকে বলে সে সম্পর্কে জানার পর মূল পাঠ আলোচনা করব।

ভ্যানডার ওয়ালস বল কাকে বলে ভ্যানডার ওয়ালস বল কি

ভ্যানডার ওয়ালস বল কাকে বলে

সমযোজী অপোলার যৌগের অণুগুলোর মধ্যে যে দুর্বর আকর্ষণ বল দ্বারা পরস্পর আকৃষ্ট হয় তাকে ভ্যানডার ওয়ালস বল বলে।

ভ্যানডার ওয়ালস আকর্ষণ বল কাকে বলে

আবার, অপোলার সমযোজী অণুর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলকে ভ্যানডার ওয়ালস আকর্ষণ বল বলে।

ভ্যানডার ওয়ালস বল অণুর আকারের উপর নির্ভর করে । অণুর আকার বৃদ্ধির সাথে সাথে ভ্যানডার ওয়ালস আকর্ষণ বল ও বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পদার্থের গলনাংক ও স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়।

যেহেতু F2 এর চেয়ে Cl2, তার চেয়ে Br2 এবং তার চেয়ে I2 এর আকার বড়। এজন্য F2 এর চেয়ে Cl2 তার চেয়ে Br2 এবং তার চেয়ে I2 এর স্ফুনাংক  বেশী। একারণে সাধারণ তাপমাত্রায়  F2এবং Cl2 গ্যাস রূপে বিরাজ করলেও Br2 তরল এবং I2  কঠিন রূপে বিরাজ করে।

ভ্যানডার ওয়ালস বলের বৈশিষ্ট্য

  1. এ বল খুবই দুর্বল প্রকৃতির বল। কেবলমাত্র অণুসমূহ পরস্পর পরস্পরের খুব কাছাকাছি এলেই এ বল কার্যকরী হয়।
  2. পাশাপাশি অণুসমূহের মধ্যকার ক্ষণস্থায়ী ডাইপোল সৃষ্টির কারণে এ আকর্ষণ বলের সৃষ্টি হয়। এ আকর্ষণ বলের কারণেই গ্যাসকে তরলে পরিণত করা সম্ভব হয়।
  3. ডাইপোলে আর্কষণ বলের চেয়ে ভ্যানডার ওয়ালস্ আকর্ষণ বল অপেক্ষাকৃত দুর্বল। সমযোজী বন্ধন শক্তির তুলনায় এটি অতি নগণ্য। যেমন O₂ অণুর সমযোজী বন্ধন শক্তি 402 kJ.mol-¹। কঠিন অবস্থায় অক্সিজেন অণুসমূহের মধ্যে ভ্যানডার ওয়ালস্ বলের মান মাত্র 7 kJ.mol-¹
  4. ভ্যানডার ওয়ালস্ আকর্ষণ বলের কোনো দিক নির্দেশক ধর্ম নেই। আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলকেই ভ্যানডার ওয়ালস্ বল হিসেবে ধরা হয়। এ হিসেবে একে নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা হয়।

(i) লন্ডন বল (london forces), (ii) ডাইপোল – ডাইপোল বল (dipole – dipole forces), (iii) ডাইপোল আবিষ্ট ডাইপোল বল (dipole induced forces), (iv) আয়ন ডাইপোল আন্তঃক্রিয়া বল (ion – dipole interactions forces), (v) আয়ন – আবিষ্ট ডাইপোল বল (ion-induced dipole forces), (vi) আবিষ্ট ডাইপোল আবিষ্ট ডাইপোল বল (induced dipole – induced dipole force)।

ভ্যানডার ওয়ালস আকর্ষণ বল কত প্রকার ও কী কী

সাধারণভাবে ভ্যানডার ওয়ালস্ আকর্ষণ বলকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়। যথা:

  • ডাইপোল-আবিষ্ট ডাইপোল আকর্ষণ বল (Dipole-Induced dipole attraction forces)
  • আবিষ্ট ডাইপোল-আবিষ্ট ডাইপোল আকর্ষণ বল (Induced dipole-Induced dipole attraction forces)

অস্থায়ী পোলার অণু যখন অপর একটি অপোলার অণুর নিকটবর্তী হয় তখন তা পার্শ্ববর্তী অণুর ইলেকট্রন মেঘকে পোলারায়িত করে তার মধ্যে ক্ষণস্থায়ী আবিষ্ট ডাইপোলার সৃষ্টি করে। এ আবিষ্ট ডাইপোল পাশের অন্যসব অণু বা পরমাণুতে আবিষ্ট ডাইপোলের সৃষ্টি করে। এভাবে একটির পর একটি অণু পরস্পরের প্রভাবে পোলারায়িত হওয়ায় তাদের মধ্যে যে দুর্বল আকর্ষণ বলের সৃষ্টি হয় তাকে লন্ডন বল বলে।

AlCl3 ডাইমার গঠন করে কেন চিত্রসহ ব্যাখ্যা কর ?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top