মরীচিকা কাকে বলে ? মরীচিকা কিভাবে সৃষ্টি হয় ব্যাখ্যা কর ?

মরীচিকা কাকে বলে এবং মরীচিকা কিভাবে সৃষ্টি হয় ব্যাখ্যা করা হলো

মরীচিকা কাকে বলে (Mirage):

সাধারণত মরু অঞ্চল ও মেরু অঞ্চলে এক ধরনের দৃষ্টিভ্রম দেখা যায় যাকে মরীচিকা (Mirage) বলে।

দুই ধরনের মরীচিকা দেখা যায়, যথা-

(ক) নিম্ন মরীচিকা ও

(খ) উর্ধ্ব মরীচিকা।

 

নিম্ন মরীচিকা (Inferior mirage) :

নিম্ন মরীচিকা কাকে বলে

মরুভূমিতে সূর্যের প্রচন্ড তাপে বালি খুব তাড়াতাড়ি উত্তপ্ত হয়। ফলে বালি সংলগ্ন বায়ুর তাপমাত্রাও খুব বেশি থাকে। এতে করে বালি সংলগ্ন বায়ু হাল্কা হয়। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যত উপরের দিকে যাওয়া যায় বায়ুর তাপমাত্রা তত কমতে থাকে, ফলে বায়ু ধীরে ধীরে ঘনতর হতে থাকে। এমন মরুভূমিতে দূরে কোন গাছ ৭ থেকে আলোক রশ্মি পথিকের চোখে আসার সময় ঘনতর মাধ্যম থেকে লঘুতর মাধ্যমে প্রবেশ করতে থাকে। ফলে প্রতিসরিত রশ্মি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। এভাবে বাঁকতে বাঁকতে এমন একটা স্তর আসে যখন আপতন কোণ সংকট কোণের চেয়ে বড় হবে। এই সময় আলোক রশ্মির প্রতিসরণ না হয়ে সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন হবে এবং আলোক রশ্মি উপরের দিকে ওঠে বাঁকা পথে পথিকের চোখে পৌঁছাবে। এখন এই রশ্মিকে পিছনের দিকে বাড়ালে মনে হবে যে তা ‘বিন্দু থেকে আসছে। ফলে ৭’ অবস্থানের গাছের উল্টো বিষ্ণু দেখা যাবে।

 

উর্ধ্ব মরীচিকা (Superior mirage) :

উর্ধ্ব মরীচিকা কাকে বলে

মেরু অঞ্চল খুব ঠান্ডা বলে ঐ অঞ্চলে ভূসংলগ্ন বায়ু স্তরের তাপমাত্রা সবচেয়ে কম হয়। ফলে নিচের বায়ু সবচেয়ে ঘন হর। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যত উপরে ওঠা যায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুর যচ্ছতাও কমতে থাকে। সুতরাং দূরবর্তী কোন জাহাজ বা নৌকা থেকে আলোক রশ্মি উপরের দিকে যেতে থাকলে তা ঘন মাধ্যম থেকে হাল্কা মাধ্যমে যায় বলে ক্রমশ লম্ব থেকে দূরে সরে যায়। এভাবে কোন এক বায়ু স্তরে আপতন কোণ সংকট কোণের চেয়ে বড় হলে আলোক রশ্মির পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন হয় এবং আলোক রশ্মি নিচের দিকে বেঁকে যায়। এবার আলোক রশ্মি হাল্কা থেকে ঘন মাধ্যমে যাওয়ার ফলে অভিলম্বের দিকে সরে যায়।

রশ্মিটি বাঁকা পথে দর্শকের চোখে পড়ে। এতে দর্শকের কাছে মনে হয় যে, রশ্মিটি উপর থেকে আসছে। তাই উপরে জাহাজের উল্টো বিশ্ব দেখা যায়।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top