রাসায়নিক বন্ধন কাকে বলে কত প্রকার ও কী কী

আজ আমরা আলোচনা করব রাসায়নিক বন্ধন কাকে বলে। রাসায়নিক বন্ধন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে তারপর রাসায়নিক বন্ধন কত প্রকার ও কী কী এবং প্রত্যেকটির সংঙ্গা সহ বিস্তারিত আলোচনার করব।

রাসায়নিক বন্ধন কাকে বলে রাসায়নিক বন্ধন কত প্রকার

রাসায়নিক বন্ধন কাকে বলে

যে বন্ধন বল বা শক্তির সাহায্যে অণুতে বিদ্যমান পরমাণু গুলি একে অপরের সাথে আবদ্ধ থাকে, তাকে রাসায়নিক বন্ধন বলে।

যেমন- দুই পরমাণু হাইড্রোজেন রাসায়নিক বন্ধনের সাহায্যে পরপর যুক্ত হয়ে হাইড্রোজেন অণু গঠন করে। তদ্রুপ সোডিয়ামের একটি পরমাণু ক্লোরিনের একটি পরমাণুর সঙ্গে রাসায়নিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড অণু সৃষ্টি করে।

রাসায়নিক বন্ধন কত প্রকার

ইলেকট্রনের বন্টনের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে রাসায়নিক বন্ধন তিন প্রকার। যাথা

  1. তড়িৎযোজী বা আয়নিক বন্ধন (Electrovalent or lonic bond)
  2. সমযোজী বন্ধন (Covalent bond)
  3. সন্নিবেশ বন্ধন (Co-ordinate covalent bond)

আরো কিছু রাসায়নিক বন্ধন :

  1. ধাতব বন্ধন (Metalic bond)
  2. হাইড্রোজেন বন্ধন (Hydrogen bond)
  3. ভ্যান্ডার ওয়ালের বল (Vander Wall’s forces)

তড়িৎযোজী বা আয়নিক বন্ধন : ধাতব পরমাণু ও অধাতব পরমাণু ইলেকট্রন বর্জন ও গ্রহনের মাধ্যমে যে বন্ধন তৈরি করে তাকে আয়নিক বন্ধন বলা হয়।

সমযোজী বন্ধন : রাসায়নিক সংযোগে অংশগ্রহণ কারী পরমাণু সমূহ প্রত্যেকে সম সংখ্যক ইলেকট্রন প্রদান করে যে ইলেকট্রন যুগল উৎপন্ন করে, উক্ত ইলেকট্রন যুগল উভয় পরমাণুই সমান ভাবে শেয়ার করে নিস্ক্রিয় গ্যাসের মত ইলেকট্রন বিন্যাস অর্জনের মাধ্যমে যে রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি করে তাকে সমযোজী বন্ধান বলে।

সন্নিবেশ বন্ধন : রাসায়নিক সংযোগে অংশগ্রহনকারী পরমাণুদ্বয় ইলেকট্রন যুগলের মাধ্যমে সংযুক্ত হবার ক্ষেত্রে উক্ত ইলেকট্রন যুগল যদি বন্ধনে অংশ গ্রহনকারী পরমাণু দ্বয়ের শুধু একটি পরমাণু হতে আসে, তবে উৎপন্ন সে বন্ধনকে সন্নিবেশ বন্ধন বা সন্নিবেশ সমযোজী বন্ধন বলে।

ধাতব বন্ধন : কঠিন ধাতব স্ফটিকে ধাতব পরমাণু সমূহ পরস্পরের সাথে যে নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ থাকে তাকে ধাতব বন্ধন বলে।

হাইড্রোজেন বন্ধন: উচ্চ ইলেকট্রন আসক্তি, তীব্র তড়িৎ ঋনাত্মকতা ও ক্ষুদ্র পারমাণবিক আকারবিশিষ্ট পরমাণুর সাথে সমযোজী বন্ধনে যুক্ত থেকে H-পরমাণু একই অণু বা অপর কোন পোলার অণুর ঋনাত্মক মেরু যুক্ত তীব্র তড়িৎ ঋনাত্মক পরমাণুকে দুর্বল স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বলের মাধ্যমে সংযুক্ত করে যে বিশেষ এক ধরনের বন্ধন গঠন করে তাকে হাইড্রোজেন বন্ধন বলে।

ভ্যান্ডার ওয়ালের বল : সমযোজী অপোলার যৌগের অণুগুলোর মধ্যে যে দুর্বর আকর্ষণ বল দ্বারা পরস্পর আকৃষ্ট হয় তাকে ভ্যানডার ওয়ালস বল বলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top